নতুন রাউটার কেনার পর যে ৫টি কাজ প্রথমেই করা উচি

আমরা বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তির সাথে এমনকি প্রযুক্তি ঠিক আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে বাস করছি। আমাদের প্রায় সবার কাছেই এখন এই প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছে যেন আমরা প্রযুক্তি ছাড়া প্রায় অচলই বলা চলে। আজ আমি এই প্রযুক্তির একটি ছোট কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় পণ্য ‘ওয়াই-ফাই রাউটারের’ সেফটি ও সিকিউরিটি নিয়ে ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

ওয়্যারলেস ইন্টারনেট কানেকশন বর্তমান সময়ে খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে আর ব্রডব্যান্ডের ক্যাবল নিয়ে ঘুড়তে ভালোবাসে, আর না এটি ঘরের বাইরে ব্যবহার করা যায়। আর এই ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটির জন্য অন্যতম উপায় হচ্ছে ‘রাউটারের’ ব্যবহার। এ জন্য এখন দেখা যাচ্ছে বর্তমান সময়ে অফিস-আদালত-স্কুল কলেজেও রাউটার ব্যবহৃত হচ্ছে অনেক। বিশেষ করে যারা একের অধিক ডিভাইস ব্যবহার করে থাকেন তাদের বাসায় ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটির সবচাইতে ভালো মাধ্যম হচ্ছে ‘রাউটার’।

‘রাউটার’ ব্যবহার এর আগে কিছু সেটিংস করে নিতে হয়। কেননা, আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে রাউটার কিনে এনে যদি ভালো মত রাউটারটির সিকিউরিটি কনফিগার না করেন তবে দেখা যাবে আপনার ওয়্যারলেস কানেকশনটি কেউ লুকিয়ে ব্যবহার করছে। চলুন, ৫টি খুব গুরুত্বপূর্ণ উপায় জেনে নেই যার মাধ্যমে আপনার শখের এবং প্রয়োজনীয় রাউটারটি থাকে সেইফ এবং সিকিউর।

১. ফার্মওয়্যারআপডেট করুনঃ রাউটারের স্ট্রাকচারের মাঝে একটি মেমোরি চিপ থাকে যার মধ্যে ‘ফার্মওয়্যার’ ইন্সটল করা থাকে। ‘ফার্মওয়্যারের’ মধ্যেই রাউটারটি কীভাবে চলবে না চলবে অর্থাৎ এটির অপারেটিং ইন্সট্রাকশন দেয়া থাকে। যদিও রাউটারের ফার্মওয়্যারের ক্ষেত্রে আপডেট তেমন আসেনা কেননা রাউটারের ‘ফার্মওয়্যার’ তৈরির সময় এটির প্রোগ্রামিং স্ট্রাকচার প্রথম থেকেই বেশ স্ট্যাবল করেই তৈরি করা হয়। তবুও মূলত রাউটার কেনার পর ‘দু’টি’ কারণে রাউটারের ফার্মওয়্যারের আপগ্রেড ভার্শন বের হয়েছে কিনা চেক করতে হয়। প্রথমত, রাউটারটি বাজারে আসার পর ঠিক কতটা সময় পরে আপনি কিনেছেন তাতো আর আপনি সঠিক বলতে পারবেন না। এর মধ্যে ‘ফার্মওয়্যারের’ আপডেট আসতেও পারে। আর দ্বিতীয়ত, অনেক সময় আপনার অপারেটিং সিস্টেমের কারণেও ফার্মওয়্যারের সমস্যা হতেই পারে। আর সরাসরি যদি বলি তবে, অবশ্যই আপনার আপ-টু-ডেট সিস্টেম-ই ব্যবহার করা উচিৎ।


২. ডিফল্ট লগিন পরিবর্তন করাঃ রাউটার কোম্পানিগুলো ম্যানুফ্যাকচারার ভেদে প্রাথমিকভাবে একই রকম ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে পণ্য বাজারজাত করে থাকে। এই ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ডগুলো বের করা খুব একটা কঠিন কিছুই নয়। নতুন ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ম্যানুফ্যাকচারার রাউটারের প্যাকেটের মাঝেই একটি নির্দেশিকা দিয়ে রাখে যা ইন্টারনেটে পিডিএফ আকারেও পাওয়া যায়। বুঝতেই পারছেন, সহজেই গুগল অথবা অন্যন্য সার্চ ইঞ্জিন গুলোর সাহায্যে আপনার রাউটারটির ডিফল্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা যায়। তাই, কেনার পর পরেই একটু সময় নিয়ে প্রাথমিক ভাবে প্রি-ডিফাইন্ড ইউজার নেইম এবং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।

৩. SSID পরিবর্তন করুনঃ একটি রাউটারের সাহায্যে একই ইনপুট কানেকশনের প্রেক্ষিতে কয়েকটি আউটপুট কানেকশন সরবরাহ করা যায়। আর রাউটারের সাহায্যে একটি বা একের অধিক যতগুলি কানেকশনই আপনি ক্রিয়েট করেন তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা নাম ডিফাইন করতে হবে আপনাকে। রাউটার থেকে নতুন কানেকশন তৈরি করে আপনি আপনার সেই কানেকশনের যে নাম দিচ্ছেন সেটিই হচ্ছে SSID। এই SSID কিছু রাউটারে হয়ত আগে থেকে প্রি-ডিফাইন করা থাকতে পারে। যদি থেকে থাকে তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে SSIDটি হয় সেই মডেলটি অথবা ম্যানুফ্যাকচারারের নামে। এক্ষেত্রে খুব সহজেই আপনি যদি ডিফল্ট লগইন ইনফরমেশন পরিবর্তন করেও থাকেন তবুও অন্য কেউ এক্সেস করে নিতে পারে শুধুমাত্র ইন্টারনেটের সহায়তা নিয়ে। বোঝাই যাচ্ছে, SSID থেকে অনেক আপনার রাউটার সম্পর্কে অনেক কিছুই প্রকাশ পেতে পারে। তাই, SSID পরিবর্তন করে যা ইচ্ছে রাখুন তবে খেয়াল রাখবেন যেন সেই নামগুলোর মধ্যে এমন কিছু না থাকে যাতে সহজে কিছু চিহ্নিত করা যায়।

৪. ওয়াই-ফাই কানেকশনের পাসওয়ার্ড নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুনঃ শুধু রাউটারের ক্ষেত্রেই নয়, ইন্টারনেট অথবা এরকম যে কোন তথ্য সংক্রান্ত কাজের জন্য শক্ত এবং কিছুটা বড় পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিৎ। ওয়াই-ফাই রাউটারের পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে আপনি ভালো মানের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন যেমন এই ক্ষেত্রে আপনি WPA2 সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারেন যেখানে সর্বোচ্চ ৬৩টি অক্ষর বিশিষ্ট পাসওয়ার্ড আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। WPA 2 ছাড়াও কিছু মোডের পাসওয়ার্ড আপনি ব্যবহার করতে পারেন তবে সহজ পাসওয়ার্ড এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, ওয়াইফাই রাউটারের পাসওয়ার্ড ভাঙ্গার জন্য বেশ কিছু প্রোগ্রাম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, তাই সঠিক ভাবে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৫. রিমোট এক্সেসসুবিধা বন্ধ করে দিনঃ আপনার যদি খুব বেশি ‘রিমোট এক্সেস’ এর সুবিধা ব্যবহারের প্রয়োজন হয় শুধু মাত্র সেক্ষেত্রেই সুবিধাটি চালু রাখুন। হোম ইউজারদের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটি দরকার হয় না বললেই চলে। ‘রিমোট এক্সেস’ সুবিধাটি হচ্ছে, এর মাধ্যমে আপনি আপনার রাউটারটি রিমোট এক্সেসড করে রাখা রাউটারটি থেকে দূরের কোন কম্পিউটার থেকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। রাউটারটি আপনার কম্পিউটারের নেটওয়ার্কের সাথে সাথে এর ফায়ারওয়ালের সাথেও সম্পর্কিত। তাই যদি অন্য কোন ব্যবহারকারী আপনার নেটওয়ার্কে ঢুকে পরে তবে খুব সহজেই সে ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে আপনার রাউটারটিতে এক্সেস করতে পারবে।

অবশেষে বলবো ফার্মওয়্যার আপডেট, প্রি-ডিফাইন্ড লগইন তথ্য পরিবর্তন, রিমোর্ট এক্সেস লক করা – এই কাজগুলো করতে ১০ মিনিটের বেশি সময় কোনভাবেই লাগবেনা। আপনার সামান্য সময় আপনার ডিভাইসটিকে সিকিউর করে ফেলবে অনেকখানি। তাই, যদি নতুন রাউটার কিনে থাকেন আর এখনো কাজগুলো করে না থাকেন তবে ঝটপট করে ফেলুন।

Advertisements

We want to here from you.

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s